
সুপ্রিম কোর্ট।
শেষ আপডেট: 2 May 2025 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটানা ১৫ দিন মেয়েকে বাড়ির রান্না করা খাবারই খাওয়াতে পারলেন না বাবা। এই 'অপরাধে', সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৮ বছরের মেয়েকে ফিরিয়ে নিলেন বিবাহবিচ্ছিন্ন মা। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিক্রম নাথ, সঞ্জয় করোল এবং সন্দীপ মেহতা-র বেঞ্চ এই মামলায় জানায়, বাবার প্রতি মেয়ের যথেষ্ট ভালবাসা থাকলেও, শিশুকন্যার সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পক্ষে উপযুক্ত নয় বাবার বাড়ির পরিবেশ।
জানা গেছে, ওই বাবা একজন ব্যস্ত পেশাজীবী। আদালতে জানানো হয়, তিনি একটানা ১৫ দিন মেয়ের সঙ্গে থাকার পরেও একটি দিনও তাকে ঘরের রান্না খাওয়াতে পারেননি।
পেশাগত কারণে ওই ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে কর্মরত। তবে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তিনি প্রতি মাসেই সিঙ্গাপুর থেকে কেরলের তিরুবনন্তপুরমে আসতেন। সেখানে তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতি মাসে ১৫ দিন মেয়ের সঙ্গে থাকতেন। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর তিনি বিমানে করে সিঙ্গাপুর থেকে ভারতে উড়ে আসতেন, শুধুমাত্র মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য।
প্রসঙ্গত, এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ওঠার আগে কেরল হাইকোর্ট এক আদেশে বাবাকে প্রতি মাসে ১৫ দিনের জন্য মেয়েকে নিজের কাছে রাখার অনুমতি দিয়েছিল।
তবে সে সময়ের মধ্যে একবারও মেয়েকে বাড়ির রান্না খাওয়াতে পারেননি বলেই শীর্ষ আদালতে জানানো হয়। সবসময় রেস্টুরেন্ট ও হোটেলের খাবার খাওয়ানো হত বাচ্চাকে।
এই তথ্য শুনে বিচারপতি মেহতা বলেন, 'প্রত্যেক শিশুর স্বাস্থ্যকর বিকাশের জন্য পুষ্টিকর ও ঘরের তৈরি খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রেও বাইরের খাবার দীর্ঘদিন খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে, সেখানে আট বছরের শিশুর ক্ষেত্রে তার প্রভাব আরও গুরুতর।'
এই মামলায় সব দিক খতিয়ে দেখে বিচারপতিরা জানান, মেয়ের মা যেহেতু নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন এবং ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম করেন, তার ফলে মেয়ের দেখাশোনা, খাওয়াদাওয়া ও মানসিক বিকাশের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে মায়ের বাড়িতে। তাছাড়া মেয়েটির একটি ছোট ভাইও আছে তিন বছর বয়সি, যার সঙ্গও মেয়েটির মানসিক বিকাশে বিশেষভাবে দরকার।
সুপ্রিম কোর্টের আগে, কেরল হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, ওই তিন বছরের ছেলেটিকেও প্রতি মাসে ১৫ দিনের জন্য বাবার সঙ্গে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায়কে 'চরম অন্যায্য' বলে অভিহিত করে জানায়, এত ছোট শিশুকে মায়ের কাছ থেকে ১৫ দিন আলাদা করে রাখলে তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
শেষমেশ এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে ওই বাবা মাসের দুটি উইকেন্ডে অর্থাৎ শনি-রবিবার মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন এবং সপ্তাহে দু’দিন ভিডিও কলে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।