
শেষ আপডেট: 14 March 2024 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএএ নিয়ে রাজনীতি করার জন্য তৃণমূল নেত্রী ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে তফাত বুঝতে পারছেন না। বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মমতা বলেছেন, অসমের মতো বাংলায় তিনি ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেবেন না। সিএএ-র সঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) সম্পর্ক আছে। মমতার বক্তব্য খণ্ডন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী এক নয়, উনি এটার ফারাক ধরতে পারছেন না।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ আরও বলেন, সেদিন আর দূরে নয়, যেদিন বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে আর অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। মমতা এবং তাঁর দল যদি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এরকম রাজনীতি করেন, তাহলে দেশের মানুষ তাঁদের সঙ্গ দেবেন না। শাহের কথায়, তোষণের রাজনীতি করে আপনারা অনুপ্রবেশ বন্ধ করছেন না। শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান আটকে দিলে দেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে থাকবে না।
শাহ আরও বলেন, রাজনীতি করার অনেক রাস্তা আছে। কিন্তু, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, সেই বাঙালি হিন্দুদের ক্ষতি করবেন না। আপনি নিজেও তো একজন বাঙালি। মমতাকে চ্যালেঞ্জ ঠুকে শাহ বলেন, সিএএ-র একটি অংশকে দেখান তো যেখানে কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিএএ নিয়ে রাজনীতি না করে বাংলা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রোধের দিকে মন দেওয়ার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছেন। অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পের কথা না তুলে সে রাজ্যের মতো অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন মমতা। আমি খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি, সিএএ-তে একজনেরও নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে সেটা আমাকে দেখান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিএএ নিয়ে আমরা কখনও আপস করব না। এই আইন ফিরিয়ে নেওয়াও হবে না।
ইন্ডি জোটকে আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, বিরোধীদের কোনও কাজ নেই। ওরা জানে এবারেও ওদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই। ওরা একসময় এক কথা বলে, পরক্ষণে অন্য কথা বলে, ইতিহাস তার সাক্ষী আছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। মোদীর দেওয়া সমস্ত গ্যারান্টি পূর্ণ করা হয়েছে। সিএএ নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্যের জবাবে শাহ বলেন, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যার রাজনীতি করছেন। ফলে কোন সময়ে আইন কার্যকর হল সে প্রশ্ন ওঠেই না।