
শেষ আপডেট: 2 October 2023 19:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঞ্চনা বনাম দুর্নীতির অভিযোগে সোমবার দিনভর তেতে রইল রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক জমি। দুপুরের রেশ অব্যাহত ভর সন্ধেতেও। ফের যুযুধান দু’পক্ষের সাংবাদিক বৈঠকের সাক্ষী থাকল দিল্লি।
১০০ দিনের কাজ সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে যন্তরমন্তরে ধর্না করতে চেয়েও পুলিশি অনুমতি না পেয়ে রাজঘাটে ধর্নায় বসে তৃণমূল। দুপুরে অভিষেকের সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই সেখানে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগে সরব হন তৃণমূল নেতৃত্ব। পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক থেকে ১০০ দিনের প্রকল্পে বিস্তর বেনিয়মের অভিযোগ এনে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং।
এবার এই এক বিষয়েই সন্ধেয় প্রেস মিট করে বাংলার তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। সারদা, নারদ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে অনুরাগের অভিযোগ, “সবক্ষেত্রেই দুর্নীতি করেছে তৃণমূলের সরকার। গরিব মানুষের বাড়িও লুঠ করেছে। নদী বাঁধের জন্য বালির বস্তাও পাওয়া যায়নি। বরং যারা টাকা লুঠ করেছে, তাঁদেরকেই আড়াল করার চেষ্টা করছে এই সরকার।”
তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীদের পাশাপাশি এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির সঙ্গে একাংশ সরকারি কর্মচারীও জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অনুরাগ। তাঁর কথায়, “অবশ্যই এই দুর্নীতির সঙ্গে সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকদের একাংশ জড়িত রয়েছে। তা না হলে এভাবে গ্রামের পর গ্রামে উন্নয়নের অর্থ লুঠ হত না।” কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর ঢঙে তিনিও দ্রুত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সন্ধেয় পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক থেকে অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দুর্নীতির তথ্য বিজেপির কাছে থাকেই তাহলে কেন এতদিন তদন্ত করা হল না?” খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন নিজেই। অভিষেকের কথায়, “দুর্নীতি হয়ে থাকলে আদালতের নজরদারিতে তদন্ত হোক। কিন্তু তদন্তের নামে এভাবে প্রতিহিংসা করে দিনের পর দিন বাংলার গরিব মানুষের টাকা আটকে রাখা আমরা বরদাস্ত করব না।”
প্রশ্ন তুলেছেন, “বারংবার কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে আমরা দেখা করতে চেয়েছি। উনি দেখা না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসলে ওর কাছে কোনও জবাব নেই।”
মঙ্গলবার য়ন্তরমন্তরে তৃণমূলের সমাবেশ রয়েছে। সোমবারের মতো মঙ্গলবারও পুলিশি জুলুমের আশঙ্কা করে অভিষেক বলেন, “আমাদের নেতৃত্বর জন্য ভয় পাই না। তবে বাংলা থেকে আসা নির্যাতিত একজন মানুষের গায়েও যদি হাত পড়ে তাহলে বিজেপি যে ভাষা বোঝে সেই ভাষাতেই আমরা ওদের জবাব ফিরিয়ে দেব।”