
CAA
শেষ আপডেট: 13 March 2024 18:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভার আবহেই দেশজুড়ে চালু হয়ে গেছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)। এই নিয়ে শত বিতর্ক থাকলেও কেন্দ্রের তরফে যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার তাই নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নাগরিকত্বের আবেদন করার জন্য খোলা হয়েছে পোর্টাল। এবার মোবাইল অ্যাপ খোলার ভাবনা নিয়েছে কেন্দ্র।
আইন পাস হয়েছিল আগেই। চার বছর পর দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে সিএএ। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা অর্থাৎ হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টানরা যদি ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নিতে চান, সে ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আর তার আবেদনের জন্যই খোলা হয়েছে indiancitizenshiponline.nic.in পোর্টাল। সূত্রের খবর, এরপর 'CAA-2019'-নামে একটি মোবাইল অ্যাপও চালু করা হবে। দুইয়ের মাধ্যমেই নাগরিকত্বের আবেদন করা যাবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা দেশে আশ্রয় চেয়েছিলেন এবং ইতিমধ্যেই ভারতে ৫ বছর বাস করেছেন, তাঁরা এ দেশে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। উল্লিখিত প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা নাগরিকদের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই আইন। এর আগে ১৯৫৫ সালে যে নাগরিকত্ব আইন ছিল তার সঙ্গে ২০১৯ সালের এই আইনের ব্যাপক ফারাক রয়েছে।
আগের আইনে স্পষ্ট বলা ছিল, কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভূত বা ভারতীয় উপমহাদেশে জন্মানো নাগরিক নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি সময় এদেশে থাকলেই তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করিয়েছে তাতে স্পষ্টত ধর্মের উল্লেখ আছে। এই বিষয়টি নিয়েই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আদতে মুসলিমদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ আছে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার অবশ্য জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-তে মুসলিমদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়নি। তাদের কোনও সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হবে না। বিরোধীদের অভিযোগ, এই নয়া আইন ধর্মীয় বিভেদ বাড়াবে। তবে সেই অভিযোগ মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উল্টে তাঁদের দাবি, ভোটের আবহে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না, এমনই আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।